সংক্ষেপে: হাসাদ (হিংসা) — অন্যের নিয়ামত দেখে দুঃখ পাওয়া ও তা কেড়ে নিতে চাওয়া। নবীজি (সা.): “হিংসা নেকীকে গ্রাস করে — যেভাবে আগুন শুকনো কাঠ”। ইবলিসের প্রথম গুনাহ (আদমকে সিজদা না করা), কাবিলের হাবিল হত্যা — সবই হিংসা থেকে। উপায়: দোয়া, বদনজরের মুয়াউয়িযাত, নিজেকে সন্তুষ্টি।
হাসাদ — অন্তরের রোগ। এটি ঈমান নষ্ট করে। ইবলিস আদম (আ.)-কে সিজদা করতে অস্বীকৃতির কারণ ছিল হিংসা। কাবিল ভাই হাবিলকে হত্যা করেছিল হিংসায়। ইতিহাসের বহু বড় অপরাধের মূলে হিংসা।
আজকের আর্টিকেলে আমরা হাসাদের বিধান জানবো।
এক নজরে
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| অর্থ | অন্যের নিয়ামতে দুঃখ |
| শ্রেণী | কবিরা গুনাহ |
| প্রভাব | নেকী নষ্ট |
| উদাহরণ | ইবলিস, কাবিল |
| সমাধান | দোয়া, সন্তুষ্টি |
নবীজি (সা.)-এর হাদিস
নেকী গ্রাস
“হিংসা থেকে বাঁচো — কারণ হিংসা নেকীকে গ্রাস করে যেভাবে আগুন কাঠকে।” (আবু দাউদ: ৪৯০৩)
ঈমানে বাধা
“হিংসা ও ঈমান একসাথে থাকে না।” (মুসনাদ আহমাদ)
কুরআনে
সূরা ফালাক
“আশ্রয় চাই হিংসুকের হিংসা থেকে যখন সে হিংসা করে।” (সূরা ফালাক: ৫)
ইবলিস
“যখন আমরা ফেরেশতাদের বললাম — আদমকে সিজদা কর, সবাই করলো, ইবলিস ছাড়া। সে অহংকার করলো ও কাফির হলো।” (সূরা বাকারা: ৩৪)
কাবিল
“যখন তারা দুজন কুরবানি দিলো — একজনের কবুল, অন্যের না। সে বলল — অবশ্যই তোমাকে হত্যা করবো।” (সূরা মায়িদাহ: ২৭)
হাসাদের ৩ প্রকার
১. প্রকাশ্য
- অন্যের ক্ষতি করার চেষ্টা
- সবচেয়ে খারাপ
২. অন্তরে
- কেবল অন্তরে
- কাজ না করলে গুনাহ কম
৩. গিবতা (ভালো)
- ‘আমারও যদি এমন থাকত!’
- অন্যকে ক্ষতি না
- অনুমোদিত
নবীজি (সা.)-এর ২ প্রকার হাসাদ
“হাসাদ কেবল ২ ক্ষেত্রে জায়েজ:
(১) যে ব্যক্তিকে আল্লাহ কুরআন দিয়েছেন এবং সে দিনরাত পাঠ করে।
(২) যে ব্যক্তিকে আল্লাহ সম্পদ দিয়েছেন এবং সে সদকা করে।” (সহিহ বুখারি: ৫০২৫)
অর্থ: ভালো কাজে ‘ইচ্ছা’ — হাসাদ নয়, ভালো।
হাসাদের ফলাফল
১. নেকী নষ্ট
২. অন্তরে অশান্তি
৩. মানসিক রোগ
৪. আল্লাহর দূরত্ব
৫. সমাজে ঘৃণা
৬. আখিরাতে জাহান্নাম
৭. পরিবারে বিরোধ
ইবলিসের হাসাদ
- আল্লাহ আদমকে সিজদার আদেশ
- ইবলিস: “আমি আগুন থেকে, সে মাটি থেকে — কেন আমি সিজদা করব?”
- অহংকার + হিংসা
- কাফির হয়ে গেল
কাবিলের হাসাদ
- হাবিলের কুরবানি কবুল
- কাবিলের না
- হিংসায় ভাইকে হত্যা
- প্রথম হত্যাকাণ্ড
ইউসুফের ভাইদের হাসাদ
- পিতা ইয়াকুবের প্রিয়
- ভাইরা কূপে ফেলল
- হাসাদ থেকে জীবন-নাশের চেষ্টা
হাসাদ থেকে বাঁচার ৭ উপায়
১. সূরা ফালাক + নাস
- সকাল-সন্ধ্যায় ৩ বার
২. আয়াতুল কুরসি
৩. অন্যের ভালো দেখলে দোয়া
নবীজি (সা.): “কেউ যখন কারো ভালো দেখে ভালো মনে হয় — সে যেন বলুক ‘মাশা আল্লাহ, লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’।” (আন-নাসাঈ: ১৪১)
৪. নিজে যা আছে — কৃতজ্ঞতা
৫. তুলনা না
৬. আল্লাহর ওপর ভরসা
৭. দোয়া
“আল্লাহুম্মা আসলিহ কাল্বি।” — “হে আল্লাহ, আমার হৃদয় ঠিক কর।”
যদি অন্য কেউ হাসাদ করে
১. ৩ কুল পড়া
২. আল্লাহর নাম দেওয়া
- মাশা আল্লাহ বলা
৩. অতিরিক্ত প্রদর্শন না
- সৌন্দর্য
- সম্পদ
- সাফল্য
৪. রুকিয়া শারিয়া
ভালো হাসাদের অনুপ্রেরণা
যেসব ক্ষেত্রে ‘গিবতা’ বৈধ:
– অন্যের জ্ঞান দেখে
– অন্যের ইবাদত
– অন্যের সদকা
– অন্যের চরিত্র
‘আমারও যদি এমন হতো!’
হাসাদ কি অপরিহার্য?
অনুভূতি হতেই পারে — কিন্তু কাজে না করা।
নবীজি (সা.): “যদি অনুভূতি হয় কিন্তু কাজে বাধা দাও — এটি ঈমান।”
সমাজে হাসাদের সমাধান
- প্রশংসা (সৎ)
- সাফল্যে অংশ
- দোয়া
- শিক্ষা
নবীজি (সা.)-এর দোয়া
“আল্লাহুম্মা আসলিহ কাল্বি ওয়া আসলিহ লি নিয়্যতি।”
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
প্রশ্ন ১: নিজেই যদি হাসাদ করি?
তওবা + দোয়া + সেই ব্যক্তির জন্য ভালো চাওয়া।
প্রশ্ন ২: কে হাসাদ করছে বুঝব কীভাবে?
সাধারণত কঠিন — আচরণে।
প্রশ্ন ৩: বাচ্চার প্রতি হাসাদ?
তাদের রক্ষার জন্য বেশি জিকির।
সম্পর্কিত পোস্ট
সমীক্ষা ও রেফারেন্স: পবিত্র কুরআন (সূরা ফালাক: ৫, বাকারা: ৩৪, মায়িদাহ: ২৭); সহিহ বুখারি (৫০২৫); সুনানে আবু দাউদ (৪৯০৩); সুনানে নাসাঈ (১৪১); আলকাউসার।
