সংক্ষেপে: জুম্মার নামাজ — প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ, স্থানীয় মুসলিম পুরুষের জন্য ফরজ। ফজিলত: “সপ্তাহের ঈদ” (নবীজি), ২ জুম্মার মধ্যে গুনাহ মাফ, বিশেষ দোয়া কবুলের ঘণ্টা, জান্নাতে বিশেষ প্রবেশ। শর্ত: জোহরের সময়, জামাতে, খুতবা সহ, ন্যূনতম ৩-৪০ জন (মাযহাব অনুসারে)।
জুম্মা — সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন। কুরআনে সরাসরি সূরা জুম্মা (৬২ নং)। নবীজি (সা.) বলেছেন — “সূর্য যেসব দিনে উদয় হয় — জুম্মার দিনটি সর্বশ্রেষ্ঠ।” (সহিহ মুসলিম: ৮৫৪)
আজকের আর্টিকেলে আমরা জুম্মার নামাজের বিধান, ফজিলত ও আদব বিস্তারিত জানবো।
এক নজরে
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| বিধান | ফরজ (পুরুষ) |
| সময় | জোহরের সময় |
| রাকাত | ২ (জোহরের বদলে) |
| অতিরিক্ত | ২ খুতবা |
| জামাত | ফরজ |
কুরআনের নির্দেশ
“হে ঈমানদারগণ! জুম্মার দিন যখন সালাতের জন্য আজান হয় — আল্লাহর জিকিরের দিকে দৌড়ে যাও এবং বেচাকেনা ছেড়ে দাও।” (সূরা জুম্মা: ৯)
যাদের জন্য ফরজ
৭ শর্ত:
– মুসলিম
– প্রাপ্তবয়স্ক
– পুরুষ
– সুস্থ
– স্বাধীন (দাস নয়)
– স্থানীয় (মুসাফির নয়)
– কোনো বাধা নেই
যাদের জন্য ফরজ নয়
- মহিলা (মহিলাদের জুম্মা পড়া জায়েজ, কিন্তু ঘরে জোহর উত্তম)
- শিশু
- রোগী
- মুসাফির
- বৃষ্টি-ভীষণ ঠাণ্ডা (রুকসত)
নামাজের নিয়ম
আজান
- প্রথম আজান — কেউ কেউ (উসমান রা.-এর সময় থেকে)
- দ্বিতীয় আজান — খুতবার আগে
খুতবা
- ২ খুতবা — মাঝে বসা
- আরবিতে (হানাফি-হাম্বলি)
- আরবি বা স্থানীয় ভাষায় (শাফেয়ি, কিছু হানাফি)
- কুরআন ও দোয়া
নামাজ
- ২ রাকাত জামাতে
- ইমাম শব্দ করে ফাতিহা ও সূরা
- সূরা জুম্মা + মুনাফিকুন (উত্তম)
পরে সুন্নাত
- ৪ রাকাত (হানাফি)
- ২ + ২ (শাফেয়ি)
ফজিলত
১. সপ্তাহের ঈদ
নবীজি (সা.):
“জুম্মা তোমাদের ঈদের দিন।” (ইবনে মাজাহ)
২. গুনাহ মাফ
“যে জুম্মার জন্য গোসল করে, ভালোভাবে অজু করে, মসজিদে যায়, কারো ঘাড়ের ওপর দিয়ে যায় না, খুতবা শোনে — তার এই জুম্মা থেকে পরের জুম্মা পর্যন্ত ও অতিরিক্ত ৩ দিনের গুনাহ মাফ।” (সহিহ মুসলিম: ৮৫৭)
৩. জান্নাতে প্রবেশদ্বার
“জান্নাতে ‘বাবুল জুম্মা’ নামের একটি দরজা — শুধু জুম্মার নিয়মিত পাঠকদের জন্য।”
৪. দোয়া কবুলের ঘণ্টা
“জুম্মার দিন একটি ঘণ্টা আছে — যদি কোনো মুমিন সেই সময় দোয়া করে, আল্লাহ কবুল করেন।” (সহিহ বুখারি: ৯৩৫)
সময়: ইমাম বসা থেকে সালাম পর্যন্ত (একটি মত), অথবা আসর থেকে মাগরিব পর্যন্ত (অন্য মত)।
৫. দাজ্জাল থেকে বাঁচা
সূরা কাহাফ পড়া:
“যে জুম্মায় সূরা কাহাফ পড়ে — তার জন্য এক জুম্মা থেকে পরের জুম্মা পর্যন্ত নূর।” (সুনানুন নাসাঈ)
জুম্মার আদব
১. গোসল
নবীজি (সা.): “জুম্মায় গোসল প্রাপ্তবয়স্ক প্রত্যেকের ওপর।” (সহিহ বুখারি: ৮৭৯)
২. মিসওয়াক
৩. সুগন্ধি
৪. পরিষ্কার পোশাক
৫. তাড়াতাড়ি মসজিদে
“যে প্রথম ঘণ্টায় যায় — উট কুরবানির সওয়াব; দ্বিতীয়ে — গরু; তৃতীয়ে — মেষ; চতুর্থে — মুরগি; পঞ্চমে — ডিম।” (সহিহ বুখারি: ৮৮১)
৬. দরুদ
“যে জুম্মায় বেশি বেশি দরুদ পড়ে — কেয়ামতের দিন আমার সাক্ষাৎ পাবে।”
৭. খুতবায় নীরবতা
৮. সূরা কাহাফ
যা এড়ানো উচিত
- খুতবার সময় কথা বলা — সওয়াব বাতিল
- অন্যের ঘাড়ে দিয়ে সামনে যাওয়া
- দেরি করে যাওয়া
- অহংকারী পোশাক
জুম্মার মৃত্যু
নবীজি (সা.):
“যে মুসলিম জুম্মার দিন বা রাতে মারা যায় — আল্লাহ তাকে কবরের ফিতনা থেকে রক্ষা করেন।” (তিরমিজি: ১০৭৪)
মহিলাদের জন্য
- ঘরে জোহর ফরজ (জুম্মা নয়)
- যদি মসজিদে যান — জায়েজ, কিন্তু ঘর উত্তম
- হায়েজে যাওয়া নিষেধ
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
প্রশ্ন ১: জুম্মা মিস করলে?
জোহর পড়তে হবে; ৩ জুম্মা মিস — কঠোর হাদিসে সতর্কতা।
প্রশ্ন ২: বাচ্চা মসজিদে?
বয়স ৭+ শেখানোর জন্য।
প্রশ্ন ৩: জুম্মার আগে-পরে কত রাকাত?
আগে ৪, পরে ৪+২ বা ২ (মাযহাব ভিন্ন)।
সম্পর্কিত পোস্ট
সমীক্ষা ও রেফারেন্স: পবিত্র কুরআন (সূরা জুম্মা: ৯); সহিহ বুখারি (৮৭৯, ৮৮১, ৯৩৫); সহিহ মুসলিম (৮৫৪, ৮৫৭); আলকাউসার।
