মালাকুল মউত (মৃত্যুর ফেরেশতা) কে? পূর্ণ পরিচয়

সংক্ষেপে: ‘মালাকুল মউত’ (ملك الموت) অর্থ মৃত্যুর ফেরেশতা। কুরআনে ‘আজরাইল’ নাম সরাসরি নেই — এটি সাধারণ প্রচলিত নাম। তার দায়িত্ব সব মানুষের রূহ কবজ (সূরা সিজদা: ১১)। মুমিনের রূহ কবজ সহজ, কাফিরের রূহ কবজ অত্যন্ত কষ্টদায়ক (সূরা নাযিয়াত: ১-২)।

কেয়ামতের ভয়াবহ ফেরেশতাদের মধ্যে অন্যতম মালাকুল মউত — মৃত্যুর ফেরেশতা। প্রতিটি মানুষের জীবনের শেষ মুহূর্তে যিনি আসেন — তাঁকে চেনা প্রতিটি মুমিনের জন্য জরুরি।

আজকের আর্টিকেলে আমরা মালাকুল মউতের পরিচয় ও দায়িত্ব জানবো।

এক নজরে

বিষয় তথ্য
আরবি ملك الموت (মালাকুল মউত)
অর্থ মৃত্যুর ফেরেশতা
প্রচলিত নাম আজরাইল (কুরআনে নেই)
প্রধান দায়িত্ব রূহ কবজ
প্রধান দলিল সূরা সিজদা: ১১

নামের প্রসঙ্গ

কুরআনে:
– ‘মালাকুল মউত’ ১ বার (সূরা সিজদা: ১১)
– অন্যত্র ‘আমার ফেরেশতা’, ‘আমার প্রেরিতরা’

হাদিসে:
– ‘মালাকুল মউত’ বহুবার
– ‘আজরাইল’ সরাসরি সহীহ হাদিসে নেই

তাফসীর ও ইসরাইলিয়াতে (ইহুদি সূত্র) ‘আজরাইল’ নাম এসেছে — কিন্তু এটি বাধ্যতামূলক না বিশ্বাস করা।

দায়িত্ব

আল্লাহ বলেন:

“বলো — মৃত্যুর ফেরেশতা তোমাদের যাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সে-ই তোমাদের রূহ কবজ করবে — তারপর তোমাদের রবের কাছে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।” (সূরা সিজদা: ১১)

সাহায্যকারী ফেরেশতা

আল্লাহ কুরআনে বলেন:

“যখন তোমাদের কারো মৃত্যু আসে, আমার প্রেরিতরা তাকে রূহ কবজ করে।” (সূরা আনআম: ৬১)

অর্থ: মালাকুল মউত একা নন — তার অধীনে অনেক সাহায্যকারী ফেরেশতা।

মুমিন বনাম কাফিরের রূহ কবজ

মুমিনের ক্ষেত্রে

আল্লাহ বলেন:

“(মুত্তাকী) যাদেরকে ফেরেশতারা পবিত্র অবস্থায় রূহ কবজ করে — তারা বলে: ‘তোমাদের ওপর সালাম! জান্নাতে প্রবেশ করো তোমার আমলের কারণে।’” (সূরা নাহল: ৩২)

প্রক্রিয়া:
– সাদা মুখ ফেরেশতা
– সুগন্ধি
– মিষ্টি সুসংবাদ
– রূহ পানির ফোঁটার মতো সহজে বের হয়

কাফির/মুনাফিকের ক্ষেত্রে

“যে ফেরেশতারা কষ্টে রূহ টেনে বের করে…” (সূরা নাযিয়াত: ১)

প্রক্রিয়া:
– কালো মুখ ফেরেশতা
– দুর্গন্ধ
– অভিশাপের ঘোষণা
– রূহ কাঁটাযুক্ত কম্বল থেকে বের করার মতো — অত্যন্ত কষ্টদায়ক

রূহ কবজের পরিমাপ

  • রূহ কণ্ঠে পৌঁছার পর তওবা কবুল হয় না (তিরমিজি ৩৫৩৭)
  • শরীরের যেখান দিয়ে রূহ বের হবে, সেখানে যন্ত্রণা
  • সময়: কারো কারো কয়েক মিনিট, কারো কয়েক সেকেন্ড

মুমিনের মৃত্যু-শয্যায় নবীজি (সা.)-এর দোয়া

“হে আল্লাহ, আমার মৃত্যু সহজ করুন।”

কী দেখে?

মুমিন মৃত্যুর সময়:
– জান্নাতের সাথী
– সুন্দর ফেরেশতা
– জান্নাতের ঘ্রাণ
– নবীজি (সা.)

কাফির মৃত্যুর সময়:
– জাহান্নামের সাথী
– ভয়ানক ফেরেশতা
– আগুনের ঘ্রাণ

রূহ কবজের পর

  • মুমিনের রূহ ‘ইল্লিয়্যিন’-এ (উপরের জগত)
  • কাফিরের রূহ ‘সিজ্জিন’-এ (নিচের জগত)
  • কবরে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ

মূসা (আঃ) ও মালাকুল মউত

সহিহ বুখারিতে (হাদিস: ১৩৩৯):

“মালাকুল মউত মূসা (আঃ)-এর কাছে এলে মূসা (আঃ) তাঁকে চড় মেরে চোখ ছিটকে ফেললেন। ফেরেশতা আল্লাহর কাছে অভিযোগ করলেন। আল্লাহ চোখ ফিরিয়ে দিয়ে বললেন — ‘আবার যাও, বলো তার মৃত্যুর সাথে সাথে ইচ্ছার প্রশ্ন…”

মালাকুল মউত কি মৃত্যুবরণ করবেন?

“কেয়ামতে সব প্রাণী মরবে — ইসরাফিলের শিঙ্গার পর মালাকুল মউতও মৃত্যুবরণ করবে” — কিছু বর্ণনায় (তাবারানি)।

মৃত্যুর সময়ের দোয়া

নিজে বলুন: “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ”

আপাত রোগীর কানে: কালিমা মনে করিয়ে দিন (তলকিন)।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

প্রশ্ন ১: আজরাইল নাম কোথা থেকে?
ইসরাইলিয়াত (ইহুদি সূত্র) থেকে — কুরআন-হাদিসে সরাসরি নেই।

প্রশ্ন ২: মালাকুল মউত কি দেখা যায়?
মৃত্যুর সময় সবাই দেখে।

প্রশ্ন ৩: হাসিমুখে মৃত্যু কেন?
সেখানে ভালো ফেরেশতা দেখছেন — জান্নাত প্রস্তুত।

সম্পর্কিত পোস্ট

সমীক্ষা ও রেফারেন্স: পবিত্র কুরআন (সূরা সিজদা: ১১, আনআম: ৬১, নাহল: ৩২, নাযিয়াত: ১); সহিহ বুখারি (১৩৩৯); আলকাউসার।

Similar Posts

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।