প্রধান ৪ জন ফেরেশতা ও তাদের দায়িত্ব

সংক্ষেপে: ইসলামে প্রধান ৪ জন ফেরেশতা: (১) জিব্রাইল (আ.) — ওহি আনা, (২) মিকাইল (আ.) — রিজিক-বৃষ্টি বণ্টন, (৩) ইসরাফিল (আ.) — কিয়ামতের শিঙা ফুঁকা, (৪) আজরাইল/মালাকুল মউত (আ.) — জান কবজ। এদের প্রত্যেকের অসংখ্য সহকারী আছেন।

ফেরেশতাদের প্রতি বিশ্বাস ঈমানের ৬টি রুকনের একটি। কুরআনে বহু ফেরেশতার নাম আছে, কিন্তু ৪ জন সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ — কারণ তাদের দায়িত্ব সৃষ্টির চক্রকে চালু রাখা।

আজকের আর্টিকেলে আমরা ৪ প্রধান ফেরেশতার পরিচয় ও দায়িত্ব জানবো।

এক নজরে

নং নাম দায়িত্ব
১ জিব্রাইল (আ.) ওহি বহন
২ মিকাইল (আ.) রিজিক-বৃষ্টি
৩ ইসরাফিল (আ.) কিয়ামতের শিঙা
৪ আজরাইল (আ.) জান কবজ

১. জিব্রাইল (আ.) — রূহুল আমিন

আরবি: جبريل / জিব্রীল

অন্য নাম: রূহুল কুদুস, রূহুল আমিন (পবিত্র আত্মা, বিশ্বস্ত আত্মা)

দায়িত্ব:
– নবীদের কাছে ওহি পৌঁছানো
– বিশেষ মুহূর্তে নবীজিকে সাহায্য (বদর যুদ্ধ, মিরাজ)
– মারিয়াম (আ.)-এর কাছে সুসংবাদ

কুরআনে:

“জেনে রাখো — যদি কেউ জিব্রাইলের শত্রু হয়, নিশ্চয়ই সে আল্লাহর নির্দেশে তোমার অন্তরে (কুরআন) নাজিল করেছে।” (সূরা বাকারাহ: ৯৭)

বৈশিষ্ট্য: ৬০০ ডানা (সহিহ বুখারি: ৪৮৫৭) — নবীজি (সা.) তাঁকে দুই বার আসল রূপে দেখেছেন।

২. মিকাইল (আ.)

আরবি: ميكائيل

দায়িত্ব:
– বৃষ্টি ও পানির বণ্টন
– রিজিকের বণ্টন
– সৃষ্টির প্রাকৃতিক নিয়ম

কুরআনে:

“যে জিব্রাইল, মিকাইল ও ফেরেশতাদের শত্রু, নিশ্চয়ই আল্লাহও কাফিরদের শত্রু।” (সূরা বাকারাহ: ৯৮)

বৈশিষ্ট্য: কুরআনে সরাসরি নাম এসেছে — যা প্রমাণ করে তাঁর মর্যাদা।

৩. ইসরাফিল (আ.)

আরবি: إسرافيل

দায়িত্ব:
– কিয়ামতের শিঙা ফুঁকা
– প্রথম ফুঁ — সবাই মারা যাবে
– দ্বিতীয় ফুঁ — সবাই পুনরুত্থিত

কুরআনে (সরাসরি নাম নেই, কাজের উল্লেখ):

“শিঙায় ফুঁ দেওয়া হবে — অতঃপর আসমান-জমিনের সবাই মূর্ছিত হয়ে যাবে — যাদের আল্লাহ ইচ্ছা করেন তারা ছাড়া। তারপর দ্বিতীয়বার ফুঁ দেওয়া হবে — তখন সবাই দাঁড়িয়ে দেখতে থাকবে।” (সূরা যুমার: ৬৮)

নবীজি (সা.): “আমি কীভাবে খুশি থাকব যখন শিঙা ফুঁকার ফেরেশতা মুখে শিঙা নিয়ে অপেক্ষা করছে ইঙ্গিতের?” (তিরমিজি: ২৪৩১)

৪. আজরাইল / মালাকুল মউত (আ.)

আরবি: ملك الموت (মৃত্যুর ফেরেশতা)

কুরআনে ‘আজরাইল’ নাম আসেনি — এই নাম ইসরাঈলি রেওয়ায়েতে। কুরআনে তাঁকে মালাকুল মউত বলা হয়েছে।

দায়িত্ব:
– প্রতিটি প্রাণীর জান কবজ
– আল্লাহর নির্দেশে
– সহকারী ফেরেশতাদের সাথে

কুরআনে:

“বলুন — তোমাদের ওপর নিযুক্ত মৃত্যুর ফেরেশতা তোমাদের প্রাণ হরণ করবে; তারপর তোমাদের রবের কাছে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।” (সূরা সাজদাহ: ১১)

মৃত্যুর সময়:
– মুমিনের কাছে সুন্দর চেহারায়
– কাফিরের কাছে ভয়ংকর

অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ফেরেশতা

  • রিদওয়ান — জান্নাতের দ্বাররক্ষী
  • মালিক — জাহান্নামের দ্বাররক্ষী
  • কিরামান কাতিবিন — আমল লেখক
  • মুনকার-নাকির — কবরের প্রশ্নকর্তা
  • হাফাযা — সুরক্ষাকারী
  • সাইয়াহুন — জিকির শোনার ফেরেশতা

ফেরেশতাদের বৈশিষ্ট্য

  • নূর থেকে সৃষ্ট (মুসলিম ২৯৯৬)
  • আল্লাহর অবাধ্য নয়
  • খাবার-পান নেই
  • পুরুষ-নারী নেই
  • ক্লান্তি নেই
  • আকৃতি পরিবর্তনের ক্ষমতা

দোয়া

“আল্লাহুম্মা রাব্বা জিব্রাইলা ওয়া মিকাইলা ওয়া ইসরাফিলা, ফাতিরাস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ…” — “হে আল্লাহ, জিব্রাইল, মিকাইল ও ইসরাফিলের রব” (মুসলিম: ৭৭০)।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

প্রশ্ন ১: আজরাইল কি সঠিক নাম?
কুরআনে আসেনি — মালাকুল মউত সঠিক।

প্রশ্ন ২: ফেরেশতা কতজন?
আল্লাহই জানেন — অসংখ্য।

প্রশ্ন ৩: ফেরেশতা কি ভুল করে?
না — নিষ্পাপ।

সম্পর্কিত পোস্ট

সমীক্ষা ও রেফারেন্স: পবিত্র কুরআন (সূরা বাকারাহ: ৯৭-৯৮, সাজদাহ: ১১, যুমার: ৬৮); সহিহ বুখারি (৪৮৫৭), সহিহ মুসলিম (৭৭০, ২৯৯৬), জামে তিরমিজি (২৪৩১); আলকাউসার।

Similar Posts

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।