সংক্ষেপে: সূরা মূলক (তাবারাক / আল-মানিআহ) — কুরআনের ৬৭ নং সূরা, ৩০ আয়াত। নবীজি (সা.): “কুরআনে ৩০ আয়াতের একটি সূরা — তার পাঠকের জন্য এমনভাবে সুপারিশ করবে যে তাকে ক্ষমা করা হবে।” সবচেয়ে বড় ফজিলত: কবরের আজাব থেকে রক্ষা। প্রতিরাতে পাঠ সুন্নাহ। ঘুমানোর আগে বা তাহাজ্জুদের পর।
সূরা মূলক — নবীজি (সা.)-এর সবচেয়ে প্রিয় সূরাগুলোর একটি। এটি রাতের রুটিন হিসেবে প্রতিদিন পড়ার নির্দেশ। ‘আল-মানিআহ’ (রক্ষাকারী) নামেও পরিচিত — কারণ কবরের আজাব থেকে রক্ষা করে।
আজকের আর্টিকেলে আমরা এই সূরার ৭টি ফজিলত জানবো।
এক নজরে
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| নাম | সূরা মূলক / তাবারাক / আল-মানিআহ |
| নম্বর | ৬৭ |
| আয়াত | ৩০ |
| স্থান | পারা ২৯ (সূরা মুলাক দিয়ে শুরু) |
| নাযিল | মক্কি |
৭ ফজিলত
১. কবরের আজাব থেকে রক্ষা
নবীজি (সা.):
“কুরআনে ৩০ আয়াতের একটি সূরা — তার পাঠকের জন্য সুপারিশ করবে যে তাকে ক্ষমা করা হবে। সেটি হলো — তাবারাকাল্লাযি বিয়াদিহিল মুলক।” (তিরমিজি: ২৮৯১)
‘আল-মানিআহ’ — নবীজি (সা.) সরাসরি এই নাম দিয়েছেন কারণ কবরের শাস্তি থেকে বাঁচায়।
২. জান্নাত পর্যন্ত সুপারিশ
- কেয়ামতের দিন এই সূরা পাঠকের হয়ে সুপারিশ
- আল্লাহ ক্ষমা করবেন
৩. প্রতিরাতে পাঠের সুন্নাহ
নবীজি (সা.):
“নবীজি (সা.) সূরা মূলক ও সূরা সাজদা না পড়ে ঘুমাতেন না।” (তিরমিজি: ২৮৯২)
৪. আল্লাহর সৃষ্টি ও কুদরত
সূরার মূল বিষয়:
- সাত আসমান
- সৃষ্টির নিদর্শন
- আকাশের প্রদীপ
- জাহান্নাম
- আল্লাহর অসীমতা
৫. মৃত্যুর জন্য প্রস্তুতি
“যিনি মৃত্যু ও জীবন সৃষ্টি করেছেন — তোমাদের পরীক্ষা করতে কে সবচেয়ে ভালো আমল করে।” (সূরা মূলক: ২)
৬. কেয়ামতের প্রশ্ন
জাহান্নামের প্রহরীরা প্রশ্ন করবে:
“তোমাদের কাছে কি সতর্ককারী আসেনি?” (সূরা মূলক: ৮)
সূরাটি নিজে মুখস্থ রাখার প্রেরণা।
৭. তাওহীদের দাওয়াত
- আল্লাহর একত্ব
- কেয়ামত বিশ্বাস
- কুরআনের প্রামাণিকতা
সূরার বিষয়বস্তু
শুরু (আয়াত ১-৪)
আল্লাহর মহিমা:
“তিনি বরকতময় — যাঁর হাতে সাম্রাজ্য। তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান। যিনি মৃত্যু ও জীবন সৃষ্টি করেছেন — তোমাদের পরীক্ষায়।”
মাঝ (আয়াত ৫-১১)
জাহান্নামের বর্ণনা, কাফিরদের অবস্থা।
শেষ (আয়াত ২৯-৩০)
পানির অভাব:
“বলো — দেখো, যদি তোমাদের পানি মাটির গভীরে চলে যায় — কে তোমাদের জন্য প্রবাহিত পানি এনে দেবে?”
পড়ার নিয়ম
সবচেয়ে ভালো সময়
- রাতে ঘুমানোর আগে (সহিহ সুন্নাহ)
- মাগরিবের পর
- এশার আগে
পদ্ধতি
- অজু অবস্থায়
- তাজবিদ সহ
- অর্থ বুঝে পড়া উত্তম
- ৩০ আয়াত — ৭-১০ মিনিটে
সপ্তাহে বেশি বেশি
- সাধারণত প্রতিরাতে ১ বার
অর্থ বুঝে পড়ার গুরুত্ব
- শুধু আরবি পাঠে সওয়াব — কিন্তু বাংলা অর্থে অন্তরে প্রভাব
- প্রতিদিন ১-২ আয়াতের অর্থ
মুখস্থ করার সুবিধা
- প্রায় ৩০ আয়াত — সহজ
- নামাজে পড়া যায়
- যেকোনো সময় ব্যবহার
অন্যান্য নাম
- ‘তাবারাক’ — শুরুর শব্দ
- ‘আল-মানিআহ’ — রক্ষাকারী
- ‘আল-মুনজিয়াহ’ — মুক্তিদাত্রী
অন্য কোন সূরার সাথে
সূরা সাজদা-র সাথে পড়া (নবীজির সুন্নত)।
জাদু / জিন থেকে রক্ষা
- সূরা মূলক + আয়াতুল কুরসি + ৩ কুল — শক্তিশালী রুকিয়া
কেয়ামতের দিন
নবীজি (সা.): “সূরা মূলক পাঠকের কাছে ফেরেশতা এসে বলবে — ‘এটি আমার বন্ধু, আমি একে ছাড়ব না’।”
সূরা মূলক কি করে জান্নাতে নিয়ে যাবে?
- শাফাআত (সুপারিশ)
- আমলের মধ্যে গণনা
- সংক্ষিপ্ত হিসাব
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
প্রশ্ন ১: শুধু মুখস্থ ছাড়া পড়লে?
সওয়াব একই — মুখস্থ না থাকলেও কুরআন থেকে পড়া যায়।
প্রশ্ন ২: বাংলা অনুবাদে?
আরবি + বাংলা উভয় পড়ুন। শুধু অনুবাদে নামাজে চলে না।
প্রশ্ন ৩: বাচ্চাদের শেখান?
ভালো — ছোট বয়সে মুখস্থ সহজ।
সম্পর্কিত পোস্ট
সমীক্ষা ও রেফারেন্স: পবিত্র কুরআন (সূরা ৬৭); জামে তিরমিজি (২৮৯১, ২৮৯২); আলকাউসার।
